Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

শিক্ষা  প্রশাসন বিকাশের ইতিহাসঃ

ঠিক কখন বা কোথায় শিক্ষা প্রশাসনের সূত্রপাত ঘটেছিলো তা কেউ বলতে পারে না, কারণ কখন বা কোথায় মানুষ নিজেদের জনসমষ্টির সদস্য হিসেবে, জনসাধারণ হিসেবে মনে করেছিলো তাও কেউ জানে না। প্রায় দুই হাজার বছরেরও পূর্বে গ্রীক দার্শনিক এরিষ্টটল বলেছিলেন,‘‘অনেকগুলো বিষয়ের দেখাশুনা করা এক ব্যক্তির পক্ষে সহজ নহে, তাকে অবশ্যই কয়েকজন অধঃস্তন ব্যক্তি নিয়োগ করতে হবে’’। শিক্ষা পদ্ধতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্র দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় পরিবর্তিত হয়েছে বারবার । প্রাচীনকালে গোত্রভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঠিক কোন ইতিহাস আমরা পাই না । প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার শহরসমূহে একদল পুরোহিত ব্যবস্থাপনার কার্য সম্পন্ন করতেন । তাদেরকে বানিজ্য পথের পরিকল্পনা প্রণয়ন, শ্রমিক, সৈনিক ও শিক্ষকদের কার্যধারা সংগঠন করতে হতো । তারা ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি উন্নয়নের জন্য সংকেত লেখনি উদ্ভাবন করেন ও নথিপত্র সংরক্ষনের ব্যবস্থা করেন। দেড়  সহস্রা্ধিক বছর পূর্বে চীনে লাও-জু (Lao -Tzu)  ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখে । প্রাচীন রোমের সাতপাহাড়ের রেসিয়ান পললীতেও এক প্রকার শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিকাশ পরিলক্ষিত হয় ।

প্রাচীন ভারতে কেন্দ্রীয়ভাবে কোন শিক্ষা প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল না। আর্য ঋষিরা নীপবনে তপস্যারত থাকতেন এবং বিভিন্ন যোগ সাধনার পদ্ধতিগত উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হন । পরবর্তীতে টোলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যক্তি কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ছিল । মোঘলদের সময় কেন্দ্রিয়ভাবে কিছুটা শিক্ষা প্রশাসনের বিকাশ ঘটে । বিভিন্ন খানকাহ ও মন্দিরকে শিক্ষাকার্যে নিস্কর জমি প্রদান করে মোঘলরা শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন ।

বৃটিশ ভারতে সর্বপ্রথম মেকলের শিক্ষাবিষয়ের সুপারিশে সরকার কর্তৃক শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রনের সুপারিশ করা হয় । উডের ডেসপাচে শিক্ষার প্রশাসনিক কাঠামো সুবিন্যস্ত হয় । হান্টার কমিশনে ও পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষা বিষয়ক সরকারী সুপারিশে ভারতে শিক্ষাপ্রশাসন একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিষয়ে পরিগণিত হয় ।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হতেই আতাউর রহমান শিক্ষা কমিশন ও হামিদুল হক শিক্ষা কমিশনে শিক্ষা প্রশাসনের সামান্য সংস্কার করা হয় ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস স্থাপনের ইতিহাস

বস্ত্ত নারী জাগরণের লক্ষ্যে, নারী শিক্ষার প্রদীপ প্রজ্বলনের উদ্দেশ্যে ৯০ এর দশকের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক  কয়েকটি প্রকল্প গৃহীত হয় । ১৯৯১-৯২ অর্থ বৎসরে দেশের ৭টি উপজেলায় সর্ব প্রথম নরওয়ের একটি সংস্থা নোরাড এর অর্থায়নে এফ ই এস পি ( ফিমেল এডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট) প্রকল্পের মাধ্যমে উপবৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয় । পরবর্তীতে ১৯৯৩ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর অর্থায়নে এফ এস এস  এ পি, বর্তমানে সেকায়েপ প্রকল্পের মাধ্যমে ১১৮ টি উপজেলায় এবং এশিয়ান ডেভলেপমেন্ট ব্যাংক এর অর্থায়নে এস ই ডি পি প্রকল্পের মাধ্যমে উপবৃত্তি কার্যক্রম শুরু হয় । সামাজিক ন্যায়নীতি এবং সমতা বিধানের লক্ষ্যে দেশের নারী শিক্ষার বিস্তারের জন্য সারা দেশের বাকী ২৮২টি উপজেলায় এফ এস এস পি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নের আর একটি প্রকল্প সরকার গ্রহণ করে । ২০০১ সন থেকে  উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়েও ছাত্রী উপবৃত্তি চালু করা হয় ।

 

সমাজের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা শিক্ষার্থীর কাছে পৌছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করে প্রধানতঃ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ । শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা অধিদপ্তর ও অন্যান্য  শিক্ষা অফিসসমূহ ইত্যাদি সম্মিলিতভাবে শিক্ষার এই চাহিদা পুরণ করে । সুষ্ঠ পরিচালনার স্বার্থে এসব প্রতিষ্ঠানের রয়েছে একটি সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা । প্রয়োজন ভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় জ্ঞানার্জন প্রক্রিয়া লালিত ও বিকশিত করার লক্ষ্যে । বাংলাদেশের জাতীয়, ঐতিহাসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষণ- শিখন প্রক্রিয়া ইত্যাদি যাবতীয় কাজে সুষ্ঠ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন একটি দক্ষ শিক্ষা  প্রশাসন ব্যবস্থার । প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যাবলী অর্জন করাই প্রশাসনের দায়িত্ব । এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে শিক্ষা প্রশাসন হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিপালনের ভিত্তিভুমি । এই বিষয়টির উপর  গুরুত্ব দিয়ে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার  উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষা প্রশাসনের ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিগত ০৬-০৫-২০০৫ খ্রিঃ ৯৩তম নিকার সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস স্থাপনের সিদ্ধামত গ্রহণ  করা হয় এবং প্রতিটি উপজেলায় ৬ জনের জনবল এর একটি সেট আপ অনুমোদন করা হয় । এরই ধারাবাহিকতায় সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৯ খ্রীঃ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ২৮৮০ টি পদের বিপরীতে ৪টি সমাপ্ত প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ২১৪৫ জন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের (PIU) কার্যালয়ে কর্মরত ৬৬ জন জনবল কে রাজস্ব খাতে স্থানামতর এবং অবশিষ্ট ৬৬৯টি পদ সৃজনে অনুমোদন দেয়া হয় । পরবর্তীতে ১৫-০১-২০১০ইং তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগের স্থায়ী কমিটির সভায় ৪টি সমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পের ২১৭৩টি পদ অস্থায়ীভাবে রাজস্বখাতে স্থানামতরের সম্মতি জ্ঞাপন করা হয় । এ সম্মতি অনুসারে ৩০-১২-২০০৯ইং তারিখে ২১৭৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন স্কেল অর্থমন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন অনুবিভাগে যাচাই করে জিও জারী করা হয় এবং যথারীতি ১১-০৩-২০১০ইং তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে এই জিওকে পৃষ্ঠাংকন করা হয় । সর্বশেষ শিক্ষা সচিবের আদেশে, মহাপরিচালকের মাধ্যমে অধিদপ্তরের প্যানিং শাখা থেকে ১৯-১০-২০১০ তারিখে ভুতাপেক্ষ সাপেক্ষে পদ সংরক্ষণ করে ২১৭৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদায়নের কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হয় ।

ছবি